ঢাকায় চালু হয়েছে দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত ৩। পারিবারিক মামলার বিচারপ্রার্থীদের জন্য এর অর্থ কী এবং কোন বিষয় যাচাই বাকি, জেনে নিন।
ঢাকায় চালু হয়েছে ‘ই-পারিবারিক আপিল আদালত ৩’। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে এ ধরনের আপিল আদালত এটিই প্রথম। একই অনুষ্ঠানে ‘ই-পারিবারিক আদালত ১৪’-ও নতুন করে চালু হয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর বা ভরণপোষণের মামলায় যাঁরা আদালতে ঘুরছেন, তাঁদের জন্য এই খবরের বাস্তব অর্থ কী, তা এখানে সহজ ভাষায় বলা হলো।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ সকালে রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সম্মেলনকক্ষে আদালত দুটির উদ্বোধন হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
ই-পারিবারিক আদালত বলতে কী বোঝায়
সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী এটি পারিবারিক মামলার ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা। এখানে বিচারপ্রার্থীরা অনলাইনে মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। প্রতিবেদনে আশা করা হয়েছে, এতে আদালতে সরাসরি যাতায়াত কমবে এবং নথি সংরক্ষণ ও শুনানিতে সময় ও শ্রম বাঁচবে।
এই ব্যবস্থা আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের নভেম্বর থেকে ঢাকা ফ্যামিলি কোর্ট-৫ এবং ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রাম ফ্যামিলি কোর্ট-১-এ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তৈরি সফটওয়্যারে কাজ চলছে। সেই অভিজ্ঞতার পরই আপিল পর্যায়ে এই আদালত চালু হলো।
কোন আইনে চলবে
প্রতিবেদনে দুটি আইনের কথা এসেছে।
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫। এই অধ্যাদেশের অধীনে পারিবারিক আদালত বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্ব-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ধারা ৫-এ পারিবারিক আদালতের একচ্ছত্র এখতিয়ারের কথা আছে। ই-আদালতও এই অধ্যাদেশের কাঠামোর মধ্যেই চলবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬। প্রতিবেদন অনুযায়ী এই আইন ডিজিটাল সাক্ষ্য ও ইলেকট্রনিক রেকর্ডকে আইনি স্বীকৃতি দেয়। প্রতিবেদনের দাবি, ই-পারিবারিক আদালতের অনলাইন মামলা দায়ের, সাক্ষ্য গ্রহণ ও ভার্চুয়াল হাজিরা এই আইনের অধীনে হবে।
আইনমন্ত্রী কী বলেছেন
প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কয়েকটি কথা বলেন:
- ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছে।
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও ভার্চুয়াল হাজিরার আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো কোনো আসামি কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি হাজিরা দিচ্ছেন।
- দেশে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন, বিচারক মাত্র ২,৩০০ জন। এই ব্যবধান বড় চ্যালেঞ্জ।
- ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। রায় লেখা বা সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার হলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সাধারণ বিচারপ্রার্থীর জন্য এর অর্থ কী
এখানে আমাদের সম্পাদকীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হলো, যা প্রতিবেদনের বক্তব্য নয়।
আপিল আদালত ডিজিটাল হওয়ায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা পক্ষগুলোর সুবিধা হতে পারে। শুনানির তথ্য অনলাইনে পাওয়া গেলে বারবার আদালতে গিয়ে তারিখ জানার ঝামেলা কমবে। ভার্চুয়াল অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলে দূরের জেলা বা বিদেশে থাকা পক্ষের জন্যও কাজে লাগবে।
তবে কয়েকটি বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। এগুলো আপাতত ধরে নেওয়া উচিত হবে না:
- এই আদালত কোন মামলার আপিল শুনবে এবং এর অধিক্ষেত্র কতটা, তা প্রতিবেদনে নেই। সব জেলার মামলা এখানে আসবে, এমন তথ্য নেই।
- অনলাইনে মামলা দায়ের করা যাবে কি না এবং করা গেলে কীভাবে, প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। প্রতিবেদনে শুধু মামলার তথ্য জানা ও ভার্চুয়াল শুনানির কথা আছে।
- ভার্চুয়াল শুনানি বাধ্যতামূলক, ঐচ্ছিক, নাকি আদালতের অনুমতিসাপেক্ষ, তা-ও জানা যায়নি।
আপনার মামলা এই আদালতের আওতায় পড়ে কি না, সরাসরি জানতে আপনার আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট আদালতের সেরেস্তায় যোগাযোগ করুন।
মনে রাখার বিষয়
এই উদ্বোধন কোনো নতুন আইন বা আদালতের রায় নয়। এটি বিদ্যমান বিচারব্যবস্থায় প্রযুক্তি যুক্ত করার প্রশাসনিক উদ্যোগ। পারিবারিক মামলার মূল আইনি অধিকার ও পদ্ধতি এতে বদলেছে, এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
FAQ
১. ই-পারিবারিক আপিল আদালত ৩ কোথায় উদ্বোধন হয়েছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ রাজধানীর সিএমএম আদালতের সম্মেলনকক্ষে।
২. ই-পারিবারিক আদালত কী?
পারিবারিক মামলার ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা। প্রতিবেদন অনুযায়ী এখানে অনলাইনে মামলার তথ্য জানা ও ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অংশ নেওয়া যাবে।
৩. কোন আইনের ভিত্তিতে এই আদালত চলবে?
প্রতিবেদনে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর কথা বলা হয়েছে।
৪. এখন কি ঘরে বসে অনলাইনে মামলা করা যাবে?
প্রতিবেদনে অনলাইনে মামলা দায়েরের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি দেওয়া নেই। আদালতের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করুন বা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
৫. এর আগে কোথায় ই-পারিবারিক আদালত চালু হয়েছিল?
প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা ফ্যামিলি কোর্ট-৫ এবং চট্টগ্রাম ফ্যামিলি কোর্ট-১-এ।
৬. ই-বেইল বন্ড কী?
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী এটি জামিনসংক্রান্ত একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা, যা চালু হয়েছে। এর কার্যপদ্ধতি প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধে আলোচিত আইনি তথ্য ও আদালতের রায় কেবল সাধারণ জ্ঞান ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। এটি কোনো পেশাদার আইনি পরামর্শ নয়।
SOURCES / তথ্যসূত্র
- যুগান্তর, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ঢাকা পোস্ট, বাসস ও বাংলাদেশ প্রতিদিন (সবগুলো ২৯ অক্টোবর ২০২৬)
- পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫; পরিবার আদালত বিধিমালা, ১৯৮৫; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬








