১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারি আগামীকাল। কেন্দ্রের ফটক কখন খুলবে, কখন পর্যন্ত ঢোকা যাবে এবং কোন কোন সামগ্রী সঙ্গে আনা নিষেধ, জেনে নিন।
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে ১৯তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার প্রিলিমিনারি। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয় পরীক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে। সবচেয়ে জরুরি দুটি বিষয়: কেন্দ্রে প্রবেশের সময়সীমা এবং কোন কোন জিনিস সঙ্গে আনা যাবে না।
নির্দেশনাগুলো ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছে। সময়মতো না পৌঁছালে কিংবা নিষিদ্ধ কোনো জিনিস সঙ্গে থাকলে পরীক্ষার্থীর পরীক্ষাই ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই পরীক্ষার আগের রাতেই বিষয়গুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া দরকার।
প্রবেশের সময়: ৯টা ৩০ থেকে ১০টা ৫০
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরীক্ষার দিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রগুলোর ফটক খুলে দেওয়া হবে। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
অর্থাৎ হাতে সময় আছে প্রায় ৮০ মিনিট। তবে এই পুরো সময়ের শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা ঠিক হবে না। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে ঢুকতে হবে। শেষ মুহূর্তে অনেক পরীক্ষার্থী একসঙ্গে এলে তল্লাশিতে সময় লাগতে পারে। এটি আমাদের সম্পাদকীয় অনুমান, বিজ্ঞপ্তির কথা নয়।
যেসব সামগ্রী সঙ্গে আনা যাবে না
বিজ্ঞপ্তিতে নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকা এই:
- মোবাইল ফোন
- স্মার্টওয়াচ
- হাতঘড়ি
- ওয়ালেট
- ব্যাগ
- বই
- ক্যালকুলেটর
- ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড
বিজ্ঞপ্তিতে “সহ” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মানে, তালিকার বাইরেও নিষিদ্ধ সামগ্রী থাকতে পারে। সন্দেহ হলে জিনিসটি সঙ্গে না নেওয়াই নিরাপদ।
ওয়ালেট ও কার্ড নিষিদ্ধ হওয়ায় ভাড়া বা অন্য খরচের টাকা কীভাবে রাখবেন, আগে থেকে ভেবে রাখুন। কেন্দ্রে এসব জিনিস জমা রাখার ব্যবস্থা আছে কি না, বিজ্ঞপ্তিতে তা বলা হয়নি।
নিষিদ্ধ সামগ্রী পাওয়া গেলে কী হবে
এসব সামগ্রী পাওয়া গেলে “বিধি অনুযায়ী বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। কোন বিধির কোন অংশ প্রযোজ্য, তা বিজ্ঞপ্তির বিবরণে নেই। তাই এখানে নির্দিষ্ট কোনো বিধি বা ধারার নাম উল্লেখ করা হলো না।
নিরাপত্তা তল্লাশি ও আচরণ
প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে তল্লাশি শেষে কেন্দ্রে ঢুকতে হবে। তল্লাশিতে বাধা দেওয়া, অসদাচরণ করা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে এর মানে: তল্লাশিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে নিন এবং কর্তব্যরত কর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতা করুন।
পরীক্ষার্থীর জন্য প্রস্তুতির তালিকা
নিচের পরামর্শগুলো বিজ্ঞপ্তির অংশ নয়। এগুলো সাধারণ প্রস্তুতির পরামর্শ।
- আগের রাতে: প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজ গুছিয়ে রাখুন। কী কী নিয়ে যেতে হবে, তা আপনার প্রবেশপত্র ও কমিশনের নির্দেশনায় দেখে নিন।
- যাত্রা: কেন্দ্রের ঠিকানা আগেই নিশ্চিত করুন। যানজটের সময় ধরে রওনা দিন।
- সঙ্গে যা থাকবে না: ফোন ও ঘড়ি বাসায় রেখে যান। বিজ্ঞপ্তিতে দুটোই নিষিদ্ধ।
- কেন্দ্রে পৌঁছে: ফটক খোলার পর যত দ্রুত সম্ভব ঢুকে পড়ুন। ১০টা ৫০ মিনিটের পর আর সুযোগ নেই।
এই বিজ্ঞপ্তি থেকে কী বোঝা যায়
বিজ্ঞপ্তিটি নতুন কোনো আইন তৈরি করেনি। এটি পরীক্ষার দিনের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসনিক নির্দেশনা। এর কঠোরতা মূলত দুই জায়গায়: প্রবেশের নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকা। দুটিই পরীক্ষার্থীর নিজের হাতে মানার মতো বিষয়। তাই ছোট অসাবধানতা, যেমন পকেটে ফোন রয়ে যাওয়া বা ঘড়ি পরে চলে আসা, বড় সমস্যা ডেকে আনতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন কমিশন সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তসলিম আরিফ।
FAQ
১. কেন্দ্রের ফটক কখন খুলবে?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে।
২. দেরি হলে কি ঢুকতে পারব?
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
৩. কোন কোন জিনিস সঙ্গে আনা যাবে না?
মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ, হাতঘড়ি, ওয়ালেট, ব্যাগ, বই, ক্যালকুলেটর এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী।
৪. নিষিদ্ধ সামগ্রী পাওয়া গেলে কী হতে পারে?
বিধি অনুযায়ী বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
৫. ফোন বা ব্যাগ কেন্দ্রে জমা রাখা যাবে কি?
বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। নিরাপদ থাকতে এসব জিনিস সঙ্গে না আনাই ভালো।
৬. নিরাপত্তা তল্লাশি কি সবার জন্য বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে তল্লাশি শেষে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধে আলোচিত আইনি তথ্য ও আদালতের রায় কেবল সাধারণ জ্ঞান ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। এটি কোনো পেশাদার আইনি পরামর্শ নয়।
SOURCES / তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি, ২৮ অক্টোবর ২০২৬








