চেক ডিজঅনার মামলায় অর্থ পরিশোধ ও কারাদণ্ড: হাইকোর্টের রায় বিশ্লেষণ
নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (NI) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার একটি মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির কারাদণ্ড বাতিল করেছেন এবং চেকের বকেয়া অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট মামলার সিদ্ধান্ত; সব চেক ডিজঅনার মামলায় একই ধরনের আদেশ প্রযোজ্য হবে—এমন নয়।
মামলার বিবরণ
মামলাটি মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য। বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ২২ জুলাই ২০২৬ রায় ঘোষণা করেন এবং রায়ের লিখিত অনুলিপি ৩০ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গবাদিপশুর ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসামি বাদীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, বরিশাল বাজার রোড শাখার একটি চেক দেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা ডিজঅনার হয়।
পরবর্তীতে বিচারিক আদালত আসামিকে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। পরে আপিল আদালতও সেই সাজা বহাল রাখেন।
হাইকোর্টের আদেশ
হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের আরোপিত ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বহাল রাখেন, তবে ছয় মাসের কারাদণ্ড বাতিল করেন। একই সঙ্গে আসামিকে রায়ের কপি পাওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে চেকের অবশিষ্ট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ না করলে আসামিকে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে ওই কারাদণ্ড ভোগ করলেও অর্থদণ্ড পরিশোধের দায় থেকে তিনি মুক্ত হবেন না। রায়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারার অধীনে অর্থ আদায়ের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
এই মামলায় হাইকোর্ট উল্লেখ করেছেন যে, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলায় কারাদণ্ড একটি কঠোর শাস্তি এবং উপযুক্ত ও বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া তা প্রয়োগ করা উচিত নয়। আদালত চেকের অর্থ আদায়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
রায়ে আদালত ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নীতিরও উল্লেখ করেন এবং সেই মামলায় চেক ডিজঅনারের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের কঠোরতার বিষয়ে করা পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, ১৩৮ ধারার প্রতিটি মামলায় কারাদণ্ড বাতিল করে কেবল অর্থ পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে। শাস্তি নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মামলার facts, প্রমাণ, আইন এবং আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।
এই রায়ের তাৎপর্য
রায়ের মাধ্যমে এই নির্দিষ্ট মামলায় আদালত একদিকে অর্থদণ্ড বহাল রেখেছেন, অন্যদিকে আসামিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চেকের বকেয়া অর্থ পরিশোধের সুযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে কারাদণ্ডের বিকল্পও রাখা হয়েছে।
ফলে রায়টি চেক ডিজঅনার মামলায় অর্থ আদায়, শাস্তির মাত্রা এবং আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতার পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এটিকে সব মামলার জন্য বাধ্যতামূলক সাধারণ নিয়ম হিসেবে দেখা উচিত নয়।
Jurisdiction: India
Not directly applicable to Bangladesh unless separately explained
জাকারিয়া হোসেন, স্পেশাল জজ
জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকা
আইনি সূত্র:
Negotiable Instruments Act, 1881 — Section 138;
Code of Criminal Procedure, 1898 — Section 386;
মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য, হাইকোর্ট বিভাগ, বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক বেঞ্চ, রায় ঘোষিত ২২ জুলাই ২০২৬; লিখিত রায় প্রকাশিত ৩০ জুলাই ২০২৬।
আইনি সতর্কীকরণ: এই নিবন্ধে আলোচিত তথ্য একটি নির্দিষ্ট বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে উপস্থাপিত। কোনো নির্দিষ্ট চেক ডিজঅনার মামলা, সাজা, আপিল বা অর্থ পরিশোধের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নথি ও সর্বশেষ আইন পর্যালোচনা করে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
