চেক ডিসঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য অর্থ আদায়, কারাদণ্ড নয়।
হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়। নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (NI) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট রায় প্রকাশ করেছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন।
এই ধরণের মামলার মূল উদ্দেশ্য হলো চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, চেকদাতাকে (আসামি) কারাগারে পাঠানো নয়।
কারাদণ্ড একটি অতি কঠোর সাজা, যা বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া দেওয়া উচিত নয়।
মামলার বিবরণ ও সুনির্দিষ্ট রায়:
মামলা:
মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য।
আদালত:
বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ (লিখিত অনুলিপি প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬)।
সুনিদিষ্ট আদেশ:
হাইকোর্ট আসামি আলাউদ্দিনের পূর্ববর্তী কারাদণ্ড বাতিল করেছেন, তবে চেকের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড বহাল রেখেছেন। একই সাথে চেকের বাকি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আগামী ৩ মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।
ব্যতিক্রমী শর্ত:
নির্ধারিত ৩ মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে আসামিকে ২ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড হলেও তিনি অর্থদণ্ড পরিশোধের দায় থেকে মুক্তি পাবেন না।
হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ আইনি পর্যবেক্ষণ:
১. টাকা আদায়ই প্রধান লক্ষ্য:
এনআই অ্যাক্টের মূল স্পিরিট হলো পাওনাদার যেন তার প্রকৃত পাওনা টাকা ফেরত পান, কাউকে জেল খাটানো আইনের উদ্দেশ্য নয়।
২. কারাদণ্ড দেওয়া সংবিধান পরিপন্থি:
সিভিল বা আর্থিক দায়ের জন্য কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের পরিপন্থি।
৩. আপস ও টাকা পরিশোধে অগ্রাধিকার:
মামলা চলাকালীন বা সাজার পরেও বিবাদী যদি টাকা পরিশোধ করতে চান, তবে আদালত সেটিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন।
এই যুগান্তকারী রায়ের ফলে চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত মামলাগুলোর জটিলতা কমবে এবং প্রকৃত পাওনাদারদের টাকা আদায়ের পথ আরও সুগম হবে।
লেখক: জাকারিয়া হোসেন, স্পেশাল জজ
জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকা