ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাস দুর্ঘটনায় আহত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বাহাউদ্দিন আল ইমরানের ক্ষতিপূরণ, ডাবল ডেকার বাসের নিরাপত্তা এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার মান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি বাস খাদে পড়ে গুরুতর আহত হন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বাহাউদ্দিন আল ইমরান। এ ঘটনায় দায়ের করা আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ৫০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ কেন প্রদান করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে ডাবল ডেকার বাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনায় বাহাউদ্দিন আল ইমরান গুরুতর আহত হন। তার বুকের বাম পাশের পাঁচটি পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে পারেননি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
শুনানিতে আবেদনকারীর আইনজীবীরা দাবি করেন, বাংলাদেশের মহাসড়কে চলাচলকারী অনেক ডাবল ডেকার স্লিপার বাস মূলত সিঙ্গেল চ্যাসিসের যানবাহনকে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া রূপান্তর করে তৈরি করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব যানবাহনের অনেকগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর প্রয়োজনীয় অনুমোদন, নিবন্ধন অথবা ফিটনেস সনদ নেই।
এ প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারে কয়েকটি নির্দেশনা দেন। আদালত নির্দেশ দেন, প্রতিটি সংশ্লিষ্ট বাসে ফিটনেস সনদের মেয়াদ স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি যানবাহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য কিউআর (QR) কোড সংযুক্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে পারেন।
আদালত আরও নির্দেশ দেন, আবেদনকারী বাহাউদ্দিন আল ইমরান ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে যে ক্ষতিপূরণের আবেদন করেছেন, তা ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এ মামলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং সেন্টমার্টিন পরিবহনকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালতের জারি করা রুলের জবাব তাদের দিতে হবে।
ডাবল ডেকার বাসের নিরাপত্তা, যাত্রী সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সামনে এনে হাইকোর্টের এ আদেশ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।