জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী আশাবুল ইয়ামিন হত্যা এবং ২০১৮ সালের একরামুল হক হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নাগরিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আলোচিত দুটি হত্যা মামলায় আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে সাভারে নিহত শিক্ষার্থী আশাবুল ইয়ামিন হত্যা মামলায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ এবং ২০১৮ সালে কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন অভিযুক্ত ইতোমধ্যে হেফাজতে রয়েছেন, আর অন্যরা পলাতক।
আশাবুল ইয়ামিন হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনে ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সাভারে একটি এপিসি (APC) থেকে ফেলে দেওয়ার পর আশাবুল ইয়ামিন নিহত হন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণের পাশাপাশি সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
অন্যদিকে, ২০১৮ সালে কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আসাদুজ্জামান খান, ওবায়দুল কাদের, আবদুর রহমান বদি, বেনজীর আহমেদ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র্যাব) কর্মরত ছিলেন এমন ছয়জন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার নামও অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ একাধিক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে হেফাজতে রয়েছেন, অন্যদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের মে মাসে কক্সবাজারে একরামুল হক একটি কথিত ‘ক্রসফায়ার’ ঘটনায় নিহত হন। ঘটনার পর দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে আসে, যেখানে একরামুল হক তাঁর মেয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ঘটনাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির আওতায় র্যাব এবং সংস্থাটির কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এছাড়া ট্রাইব্যুনালে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং ওবায়দুল কাদের-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুটি আলোচিত হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেওয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। মামলাগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।