চার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার আদালতে হাজির হন।
মাগুরা থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে স্ট্রেচারে করে ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার রুহুল আমিন পলাশ। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে তিনি জামিনের আবেদন করলে বিচারক তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আপাতত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং পরবর্তীতে পুনরায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযুক্ত রুহুল আমিন পলাশের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে চার কোটি তিন লাখ একচল্লিশ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের জামালপুরের বকশীগঞ্জ শাখা থেকে প্রতারণার মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পদ্মা ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), তাঁর মেয়ে রিমি চিশতী, সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার ফখরুজ্জামান, সাবেক ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার রুহুল আমিন পলাশ ও কামরুজ্জামানকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর ওই শাখার প্রধান ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খানকেও অভিযুক্ত করে মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান। গত ১৫ জানুয়ারি আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বর্তমানে বাবুল চিশতী কারাগারে এবং রিমি চিশতী জামিনে রয়েছেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে মঙ্গলবার সকালে রুহুল আমিন পলাশ মাগুরা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে উপস্থিত হন। সঙ্গে তাঁর বাবা রেজাউল করিম ও স্ত্রী ছিলেন। সম্পূর্ণ প্যারালাইজড অবস্থায় স্ট্রেচারে করে তাঁকে এজলাসে তোলা হয়। শুনানিতে তাঁর আইনজীবী মো. রমজান আলী (রিপন) আদালতকে জানান, ‘উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে জুনিয়র অফিসার হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এই আসামি কোনো প্রকার টাকা আত্মসাৎ বা জাল-জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নন। তিনি স্নায়ুজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবশ। মানবিক কারণে তিনি জামিন পাওয়ার হকদার।’
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক শাহজাহান কবির পর্যবেক্ষণ দেন যে, আসামি গুরুতর অসুস্থ এবং অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতে সম্পূর্ণ অক্ষম। এমতাবস্থায় আপাতত তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত থাকুক এবং পরবর্তীতে পুনরায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আদালতের এই নির্দেশনার পর দুপুরের দিকে রুহুল আমিন পলাশ অ্যাম্বুলেন্সে করেই আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। এই বিরল দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ায় মানবিক বিবেচনার একটি নজির সৃষ্টি করল।