ওমরাহ পালনে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এর আগে গত ৯ আগস্ট ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে সিআইডি পুলিশ ডনকে গ্রেপ্তার করে।
আজ আদালতে ডনের পক্ষে তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাজতি আসামি ডনের বিরুদ্ধে এজাহারে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই এবং তিনি কথিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাই তার জামিন পাওয়া একান্ত আবশ্যক। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করেন।
গত ৯ আগস্ট ভোরে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তারের পর ওই দিন বিকালেই ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় চিত্রনায়ক সালমান শাহ মারা যান। শুরুর দিকে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরবর্তীতে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে মামলায় রূপ নেয়। দীর্ঘদিন পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ। মামলার তদন্তে বিভিন্ন সময় একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে আসে এবং বিষয়টি নিয়ে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
খলনায়ক হিসেবে পরিচিত আশরাফুল হক ডনের জামিন নাকচের এই আদেশ মামলাটির তদন্ত প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পরও এ মামলার রহস্য উন্মোচন ও বিচারকার্য সমাপ্তির দাবিতে সালমান শাহর ভক্ত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষের প্রত্যাশা অব্যাহত রয়েছে।