বরগুনায় চেক জালিয়াতির মামলায় দণ্ডিত এক আসামি ৫ লাখ টাকার জাল ট্রেজারি চালান জমা দিয়ে জামিন পাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
বরগুনায় চেক জালিয়াতির মামলায় দণ্ডিত পটুয়াখালীর কিসমতপুর দেলওয়ার হোসেন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মাহবুবুল আলম ৫ লাখ টাকার একটি ট্রেজারি চালান আদালতে জমা দিয়ে জামিনে মুক্তি পান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে সোনালী ব্যাংকের আদালত ভবন শাখা চালানটি যাচাই করে জানায়, এতে ব্যবহৃত সিল ও স্বাক্ষর তাদের কোনো কর্মকর্তার নয়। বিষয়টি সামনে আসার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা শহরের শাহজালাল বিল্লা চেক জালিয়াতির অভিযোগে মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার বিচার শেষে আদালত আসামিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
রায়ের পর পলাতক থাকা আসামি আদালতে ৫ লাখ টাকা জমা দেওয়ার একটি ট্রেজারি চালান দাখিল করেন। ওই চালানের ভিত্তিতে তিনি জামিন লাভ করেন। পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংকের আদালত ভবন শাখার ব্যবস্থাপক চালানটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে, এতে ব্যবহৃত সিল ও স্বাক্ষর প্রকৃত নয় এবং ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে এর মিল নেই। এর মাধ্যমে চালানটি জাল বলে প্রতীয়মান হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা সুমন স্বীকার করেন যে তিনি চালানটি সত্যায়িত করেছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, চালানটি যে জাল ছিল তা তিনি জানতেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনিও প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং জাল ট্রেজারি চালান তৈরি করা সম্ভব হতে পারে, তা তাঁর ধারণায় ছিল না।
এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
ঘটনার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালত পুরো বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত ফোনে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কলেজে খোঁজ নিয়েও আসামি মাহবুবুল আলমের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আদালতে জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগ বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।