নতুন সদস্যদের জন্য যৌক্তিক ও অভিন্ন প্রবেশ ফি নির্ধারণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, জানতে চাইলেন আদালত
দেশের জেলা আইনজীবী সমিতিগুলোতে নতুন সদস্যদের জন্য প্রবেশ ফি একটি যুক্তিসঙ্গত ও অভিন্ন হারে নির্ধারণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩ আগস্ট) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত আইন সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী শিবলী নোমানী। কুড়িগ্রামের বাসিন্দা নবীন আইনজীবী মো. মাহফুজুর রহমান সম্প্রতি এই রিট আবেদন দায়ের করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, মো. মাহফুজুর রহমান কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদের জন্য আবেদন করলে তাকে জানানো হয়, নতুন সদস্যদের বয়স ৪০ বছরের নিচে হলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৪০ বছরের বেশি হলে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রবেশ ফি দিতে হবে। এছাড়া অন্য চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ বা আর্থিক সুবিধা নিয়ে সদস্য হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য ৪ লাখ টাকা এবং সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদনে এসব ফি নির্ধারণকে বৈষম্যমূলক দাবি করে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। একই সঙ্গে দেশের সব জেলা আইনজীবী সমিতিতে নতুন সদস্যদের জন্য একটি অভিন্ন ও যৌক্তিক প্রবেশ ফি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রিট আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য হতে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হতে প্রায় ২৯ হাজার টাকা ফি দিতে হয়। অথচ দেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতিতে এর কয়েকগুণ বেশি প্রবেশ ফি আদায় করা হচ্ছে।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট প্রবেশ ফি নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রুল জারি করেন। আদালতের এ রুলের পর জেলা আইনজীবী সমিতিগুলোর সদস্যপদ ফি নির্ধারণের নীতিমালা ও এর যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।