নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬-এর সংশোধিত বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতের ব্যাখ্যা চাওয়া
বিয়ের প্রতিশ্রুতি বা প্রলোভন দেখিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬-এর সংশোধিত বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সম্পূরক রুল জারি করেছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশোধিত আইনের মাধ্যমে সংযোজিত সংশ্লিষ্ট বিধানটি কেন সংবিধানবিরোধী, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না।
আবেদনের পক্ষে আদালতে উপস্থাপিত যুক্তিতে বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ ধারায় ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিধান রয়েছে, যেখানে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে পরবর্তীকালে “বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ” নামে পরিচিত অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা হতে থাকে, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একজন নারীকে শারীরিক সম্পর্কে সম্মত করা হয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের সংশোধনের মাধ্যমে আইনে নতুন একটি বিধান সংযোজন করা হয়, যেখানে বলা হয়, কোনো নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি বা আস্থাবাচনের মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্কে সম্মত করিয়ে পরে বিয়ে না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনেও একই বিধান বহাল রাখা হয়েছে।
রিটকারীর পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়, যখন উভয় ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সংঘটিত হয়, তখন কেবল পুরুষকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করে ফৌজদারি দায় আরোপ করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের দাবি, একই ধরনের পরিস্থিতিতে নারীর বিরুদ্ধে সমমানের কোনো ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করা হয়নি, ফলে আইনটি একপাক্ষিকভাবে প্রণীত হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিধানটির অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সম্পূরক রুল জারি করেন। রুলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে সংযোজিত বিয়ের প্রতিশ্রুতি বা প্রলোভনের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য শাস্তির বিধান কেন সংবিধানবিরোধী, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এই রুলের মাধ্যমে সংশোধিত বিধানটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিচারিক পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হলো। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিধানটি বহাল থাকবে নাকি এতে কোনো পরিবর্তন আসবে।