রংপুরের হারাগাছ এলাকায় এক নারীর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রংপুরের হারাগাছ এলাকায় গোপনে এক নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলার পর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁদের। শুক্রবার (২৪ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে দুজনকে রংপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন মধ্য কার্তিক গ্রামের ইয়ানুস আলীর ছেলে এমদাদুল হক (৩২) এবং মজমুলের ছেলে মোকারেম মোকা (২০)। তাঁরা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।
মামলার তদন্তকারী হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুব রহমান জানান, ভুক্তভোগী নারী এমদাদুল হককে আসামি করে গত বৃহস্পতিবার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে এমদাদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে এমদাদুল হক জানান, তিনি মোকারেম মোকার কাছ থেকে ভুক্তভোগী নারীর ভিডিওটি সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর পুলিশের অভিযানে মোকারেমকেও আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মোকারেম জানান বলে পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে তিনি গোপনে ওই নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ করেন। পরে গত ২০ জুলাই ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিওটি পাঠিয়ে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী এতে সাড়া না দিলে মোকারেম ভিডিওটি এমদাদুল হকের কাছে পাঠান।
তদন্তকারী কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এরপর ২২ জুলাই রাতে এমদাদুল হক ভিডিওটি ভুক্তভোগীর কাছে পাঠিয়ে তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন আদালত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করার পর আদালতের নির্দেশে তাঁদের রংপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।