বাংলাদেশ পিপলস লীগকে নিবন্ধন দিতে ইসিকে হাইকোর্টের নির্দেশ
দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের পর তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ পিপলস লীগকে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বাংলাদেশ পিপলস লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের পর দেওয়া এ নির্দেশের মাধ্যমে দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত বিরোধ নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২০১২ সালে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার পরও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সত্ত্বেও তাদের আবেদন অনুমোদন করা হয়নি। পরে পুনরায় তদন্তের (রি-ইনকোয়ারি) আবেদনও গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন না পাওয়ার পর তারা বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন পুনরায় তদন্তের আবেদন প্রত্যাখ্যান করায় সেটিও আদালতের নজরে আনা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলটির নিবন্ধন প্রদানের নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশ পিপলস লীগের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারা ২০ দলীয় জোটের শরিক থাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন এবং সেই কারণে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য এই তথ্যে উল্লেখ নেই।
দলটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টের নির্দেশকে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের আশা, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে তারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে।
এই মামলাটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিচারিক পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপই এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি অগ্রগতি নির্ধারণ করবে।