হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের আইনি গবেষণায় সহায়তা দিতে ল’ ক্লার্কস নিয়োগের সুপারিশ প্রণয়নে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে।
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের জন্য গবেষণা সহযোগী নিয়োগের সুপারিশ প্রণয়নে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। রায়ে আদালত বলেন, আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে এ কমিটি গঠিত হবে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে কমিটিকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
এই মামলার পটভূমি অনুযায়ী, ২০২১ সালের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন এবং ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ছুটি, পেনশন ও বিশেষাধিকার) আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও অন্যান্য আইনজীবী ও আইন শিক্ষার্থীসহ মোট ১৩ জন গত বছরের নভেম্বরে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
মূল রিটের ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট বিভাগের প্রত্যেক বিচারপতির জন্য অ্যাডহক বা চুক্তিভিত্তিক আইন সহকারী-কাম-গবেষণা সহযোগী (ল’ ক্লার্কস-কাম-রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট) অথবা গবেষণা কর্মকর্তা বা ইন্টার্ন নিয়োগের প্রক্রিয়া গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ আগস্ট রিট আবেদনকারী পক্ষ সম্পূরক আবেদনটি করে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিপুল কর্মভার ও মামলার উল্লেখযোগ্য জট মোকাবিলা সত্ত্বেও বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা কোনো নিবেদিত ল’ ক্লার্কস-কাম-রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, গবেষণা কর্মকর্তা বা গবেষণা ইন্টার্ন সহায়তা পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিকে আবেদনে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
আজ আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার। শুনানি শেষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক মামলা বিচারাধীন এবং প্রতিনিয়ত নতুন মামলার চাপ বাড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চ আদালতে বিচারপতিদের সহায়তার জন্য গবেষণা সহযোগী বা ল’ ক্লার্কস নিয়োগের সুপ্রতিষ্ঠিত রীতি থাকলেও বাংলাদেশে এ ব্যবস্থা এখনও চালু হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে আদালতের আজকের নির্দেশ বিচারিক কার্যক্রমের গতিশীলতা ও গুণগত মানোন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণীত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।