বিকাশ, নগদ ও রকেটের সার্ভিস চার্জের বৈধতা এবং স্বতন্ত্র এমএফএস আইন প্রণয়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব চেয়েছেন হাইকোর্ট।
বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর আরোপ করা সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও আইনবিরোধী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশ, নগদ ও রকেটের আরোপ করা সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও আইনবিরোধী ঘোষণা করা হবে না এবং বিশেষ করে দরিদ্র ও ব্যাংকিং সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তিসঙ্গত, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী সার্ভিস চার্জ নিশ্চিত করতে কেন একটি স্বতন্ত্র ‘মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন’ প্রণয়ন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার (২৬ জুলাই) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছাচারী ও অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আদায় করছে। এ প্রেক্ষাপটে আদালত জানতে চেয়েছেন, এসব সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং আইনবিরোধী ঘোষণা করা হবে না।
একই সঙ্গে আদালত বিশেষভাবে দরিদ্র ও ব্যাংকিং সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় একটি স্বতন্ত্র ‘মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও রুল জারি করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে ভোক্তা সুরক্ষা এবং এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
রুলে অর্থ সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সাকিব। এর আগে সচেতন গ্রাহক ও নাগরিক হিসেবে তিনি নিজেই হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
এই রুলের মাধ্যমে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস খাতে সার্ভিস চার্জের বৈধতা, ভোক্তা অধিকার এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিয়ে বিচারিক পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হলো। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।