সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজীবন যেসব সুবিধা পাবেন: ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা, ছয় মাস SSF-PGR নিরাপত্তা
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে গত ২৪ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন。 পদত্যাগ করলেও আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি আজীবন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।
অবসরভাতা ও আনুতোষিক
‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫’ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির পদে পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করলে অথবা অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন করলে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী হন。 বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই হিসাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা পাবেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি অবসরভাতার পরিবর্তে এককালীন আনুতোষিকও (gratuity) গ্রহণ করতে পারেন। এজন্য তাকে প্রাধিকার অর্জনের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে অবসরভাতার পরিবর্তে আনুতোষিক গ্রহণের ইচ্ছার কথা জানাতে হবে। আনুতোষিকের পরিমাণ এক বছরের জন্য প্রদেয় অবসরভাতার তত গুণ হবে, যত বছর তিনি রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন।
কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে অন্য কোনো চাকরি বা পদ থেকে অবসরে গিয়ে অবসর ভাতা গ্রহণ করলে তিনি ওই অবসর ভাতা এবং রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতার মধ্যে তার ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো একটি পাওয়ার যোগ্য হবেন।
অন্যান্য সুবিধা
আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি নিম্নলিখিত সুবিধা পাবেন:
| সুবিধার ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| ব্যক্তিগত সহকারী | একজন ব্যক্তিগত সহকারী |
| অ্যাটেনডেন্ট | একজন পরিচারক |
| দাপ্তরিক ব্যয় | সরকার নির্ধারিত বার্ষিক ভাতা |
| যানবাহন | সরকারি অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন |
| টেলিফোন | বাসভবনে একটি টেলিফোন সংযোগ ও নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিল সরকার বহন |
| চিকিৎসা | একজন মন্ত্রীর সমমানের চিকিৎসা সুবিধা |
| পাসপোর্ট | কূটনৈতিক পাসপোর্ট |
| সার্কিট হাউস | দেশের অভ্যন্তরে সফরে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থান |
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ছয় মাসের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (SSF) ও প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড রেজিমেন্ট (PGR)-এর নিরাপত্তা পাবেন। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সুবিধা প্রত্যাহারের শর্ত
আইনে কিছু ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রত্যাহারের বিধানও রয়েছে। কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি যদি Consolidated Fund থেকে বেতন বা সুবিধাসহ অন্য কোনো পদ গ্রহণ করেন, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, অথবা উচ্চ আদালত ঘোষণা করেন যে তিনি অসাংবিধানিক বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন — তাহলে এসব সুবিধা প্রত্যাহার করা যায়।
বিধবা/বিপত্নীক স্বামীর সুবিধা
রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতা গ্রহণ করে মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী অথবা ক্ষেত্রমতে বিপত্নীক স্বামী তার প্রাপ্য অবসর ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু মাসিক ভাতা পাবেন।
পদত্যাগের প্রেক্ষাপট
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। বিভিন্ন মহলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে এবং গণঅভ্যুত্থানের পর তার অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা。 শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেন।
আইনি প্রেক্ষাপট
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫’ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বকালীন বেতন ও বিশেষাধিকার নির্ধারণ করে। সাবেক রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬’-এ।
পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
অবসরভাতা কী? সাবেক রাষ্ট্রপতি আজীবন মাসিক অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী। বর্তমান হিসাবে এটি মাসে ৯০ হাজার টাকা।
আনুতোষিক কী? অবসরভাতার পরিবর্তে এককালীন অর্থ। এক মাসের মধ্যে ইচ্ছা জানাতে হয়।
নিরাপত্তা কতদিন? ছয় মাসের জন্য SSF ও PGR নিরাপত্তা; পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী।
সুবিধা কখন বন্ধ হয়? অন্য পদ গ্রহণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত, বা অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতি হওয়ার ঘোষণা হলে।
সংক্ষেপে
- ২৪ জুলাই ২০২৬: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন।
- স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
- মাসিক অবসরভাতা: ৯০ হাজার টাকা (১ লাখ ২০ হাজার টাকার ৭৫%)।
- আনুতোষিক গ্রহণের সুযোগ; এক মাসের মধ্যে জানাতে হবে।
- ব্যক্তিগত সহকারী, অ্যাটেনডেন্ট, বার্ষিক দাপ্তরিক ভাতা।
- মন্ত্রী-সমমানের চিকিৎসা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট, সার্কিট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থান।
- ছয় মাস SSF ও PGR নিরাপত্তা।
- সুবিধা প্রত্যাহারের তিনটি শর্ত।
- বিধবা/বিপত্নীক স্বামী দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু ভাতা পাবেন।
- আইনি ভিত্তি: প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫; রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬。
তথ্যসূত্র
প্রাথমিক আইনি সূত্র:
- দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ — ধারা ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ১০
- রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬
- বাংলাদেশের সংবিধান — অনুচ্ছেদ ৫৪
মাধ্যম সূত্র:
- প্রথম আলো — ২৪ জুলাই ২০২৬
- কালবেলা — ২৪ জুলাই ২০২৬
- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম — ২৪ জুলাই ২০২৬
- দ্য ডেইলি স্টার — ২৬ জুলাই ২০২৬
- ডেইলি অবজার্ভার — ২৪ জুলাই ২০২৬
- আমার দেশ — ২৪ জুলাই ২০২৬
- বাংলা টেলিগ্রাফ — ২৪ জুলাই ২০২৬
- আগামীর সময় — ২৫ জুলাই ২০২৬
আইনি সতর্কতা
এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো আইনি পরামর্শ নয়। সাবেক রাষ্ট্রপতির সুবিধা সংক্রান্ত বিধান আইন অনুযায়ী নির্ধারিত; কোনো আদালতের রায় নয়। সুনির্দিষ্ট পরামর্শের জন্য যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।
