দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা না পেছানোর কারণ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা: দেশব্যাপী চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার মধ্যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিতের দাবি উঠলেও সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেই পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে দেশের প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। দুর্যোগের পূর্বাভাস সম্পর্কে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী অধিকাংশ এলাকায় পরীক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ থাকায় পরীক্ষা পেছানো হয়নি।
তবে তিনি জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর আওতায় রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরীক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কোথাও জলাবদ্ধতা বা যাতায়াত সমস্যার খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিছু এলাকায় নৌকার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষার সময়ও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে চলতি এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে দুটি প্রশ্নে ত্রুটি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও মডারেশনের প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন হওয়ায় পরীক্ষা চলাকালে তা সংশোধনের সুযোগ ছিল না। তবে ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।