দেনমোহর আদায়ে মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় গাইডলাইন চেয়ে হাইকোর্টে রিট, আইনি সংস্কারের দাবি

ঢাকা: বিবাহের সময় নির্ধারিত দেনমোহর (ডাওয়ার) দীর্ঘ সময় পর পরিশোধের ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির কারণে এর প্রকৃত মূল্য কমে যাওয়ায় নারীরা তাদের ন্যায্য আর্থিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি উঠেছে। এ বাস্তবতায় দেনমোহর আদায়ে সময়ের ব্যবধান ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় গাইডলাইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

আইনজীবীর আবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিবাহ একটি দেওয়ানি (সিভিল) চুক্তি এবং দেনমোহর স্ত্রীর আইনগত অধিকার। স্বামীর ওপর এটি একটি আইনগত ঋণ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে স্বামী জীবিত থাকুক বা মারা যাক, দেনমোহর আদায়ের অধিকার বহাল থাকে। প্রয়োজনে উত্তরাধিকারীরাও আইন অনুযায়ী এ দাবি উত্থাপন করতে পারেন।

রিটে উল্লেখ করা হয়, আইনের দৃষ্টিতে দেনমোহর মূলত তাৎক্ষণিকভাবে (Prompt Dower) পরিশোধযোগ্য। তবে বাস্তবে অধিকাংশ কাবিননামায় এর একটি অংশ বিলম্বিত (Deferred Dower) হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা সাধারণত তালাক, বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর পর পরিশোধ করা হয়।

আবেদনকারীর দাবি, দীর্ঘ সময় পর একই অঙ্কের দেনমোহর পরিশোধ করা হলেও মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমে যায়। ফলে স্ত্রী তার প্রকৃত আর্থিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। উদাহরণ হিসেবে রিটে বলা হয়, ২০ বছর আগে নির্ধারিত এক লাখ টাকার মূল্য বর্তমান সময়ে একই পরিমাণ অর্থের সমান নয়।

এ প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে দেনমোহর পরিশোধের ক্ষেত্রে সময়ের ব্যবধান, মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থের প্রকৃত মূল্য বিবেচনায় একটি নীতিমালা বা গাইডলাইন প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সমাজে অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব আর্থিক সক্ষমতার চেয়ে সামাজিক মর্যাদা বা আনুষ্ঠানিকতার কারণে অস্বাভাবিক অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই অর্থ আদায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ ও আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়।

আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, দেনমোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বামীর আর্থিক সক্ষমতা, বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় রাখা হলে এ ধরনের বিরোধ অনেকাংশে কমে আসবে।

রিটের বিষয়ে হাইকোর্টের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালত গাইডলাইন প্রণয়নের বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দিলে তা দেনমোহর আদায়ের বিদ্যমান পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।