জাতিসংঘের ১৪০০ শহীদের তালিকা কি কম? আসল সত্য উদ্ঘাটনে ট্রাইব্যুনাল

রায়েরবাজারে কবর পরিদর্শনের পর গণকবর, ডিএনএ পরীক্ষা ও নিখোঁজ মৃতদেহের অনুসন্ধান নিয়ে তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর।
ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান পরিদর্শনের পর জুলাই আন্দোলনের শহীদদের শনাক্তকরণ, গণকবর অনুসন্ধান এবং চলমান তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থা যৌথভাবে শহীদদের পরিচয় নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছে।
প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ১১৪ জন শহীদের কবর পরিদর্শন করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জুলাই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, সরকার এখন পর্যন্ত ৮৩৪ জন শহীদের নাম গেজেটভুক্ত করেছে।
তিনি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে জোরাইন, মাতুয়াইল, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন গণকবর পরিদর্শন করা হচ্ছে। এসব স্থানে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে এমন তথ্যও উঠে এসেছে যে, জুলাইয়ের ঘটনায় কিছু হাসপাতাল মৃতদেহের তথ্য সংরক্ষণ করেনি অথবা যথাযথ নথিভুক্তি ছাড়াই দাফনের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
প্রধান প্রসিকিউটর আরও বলেন, তদন্তে ঢাকার নিকটবর্তী একটি নদীতে হাসপাতাল থেকে একাধিক মৃতদেহ ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, জুলাইয়ের ঘটনায় সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি রাষ্ট্রের যে পদেই থাকুন না কেন, তদন্তে দায় প্রমাণিত হলে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণ এবং তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যানের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যা এবং সরকারি গেজেটভুক্ত সংখ্যার মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গণকবর এবং নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া মরদেহের তথ্য যুক্ত হলে মোট নিহতের সংখ্যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়েও বেশি হতে পারে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, এ বিষয়ে সরকার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাই এ বিষয়ে তিনি নতুন করে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
জুলাই আন্দোলনের ঘটনাসংশ্লিষ্ট তদন্তে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত, আলামত সংগ্রহ এবং অভিযোগ যাচাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।