জাতীয় সংসদে পাস হলো ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২৬’

ঢাকা: মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করতে জাতীয় সংসদে ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। বিলে মাদক মামলার তদন্ত ও নজরদারি জোরদার, জব্দকৃত আলামত দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রতিটি থানায় পৃথক ফোকাল পয়েন্ট স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংসদে বিলটি উপস্থাপন ও আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে বিদ্যমান আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত একাধিক প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিটি থানায় থাকবে পৃথক ফোকাল পয়েন্ট

বিল অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি থানায় মাদকসংক্রান্ত মামলা নিবন্ধন, তদন্তের অগ্রগতি এবং তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি পৃথক ফোকাল পয়েন্ট বা সেল গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংরক্ষণ এবং দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সরকারের আশা।

‘মালখানা’ ব্যবস্থাপনায় নতুন বিধান

মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দ করা আলামত সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ‘মালখানা’ সম্পর্কেও বিলে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কারণে নষ্ট হওয়া বা অপব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে আদালতের অনুমতি নিয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তা ধ্বংস করার বিধান রাখা হয়েছে।

ফেন্সিডিল ও ইয়াবার নাম যুক্ত করার প্রস্তাব

বিলের ওপর আলোচনায় একাধিক সংসদ সদস্য মাদকের তালিকায় ‘ফেন্সিডিল’ ও ‘ইয়াবা’ শব্দ দুটি সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইনে ইতোমধ্যে মাদকদ্রব্যের রাসায়নিক নামের ভিত্তিতে তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা প্রচলিত নাম যুক্ত করলে ভবিষ্যতে আইনের প্রয়োগে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

তদন্ত ও মামলার অগ্রগতি মাসিক পর্যবেক্ষণ

সংশোধিত বিলে মাদক মামলার তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতি মাসিক ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন আকারে পাঠানোর বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, এতে মাদকবিরোধী অভিযানে সমন্বয় ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

মাদকবিরোধী লড়াইয়ে নতুন পদক্ষেপ

বিলটি পাসের আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের গঠনমূলক মতামতের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের চলমান কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতেই এ সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাদকবিরোধী অভিযানে স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা এবং তদারকি আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংশোধিত বিলটি পাসের মাধ্যমে দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও আরও কার্যকর করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।