প্রথম কর্মদিবসে দায়িত্ব নিলেন নতুন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা। রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা ও জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নবনিযুক্ত আইন কর্মকর্তাদের
নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতির দেওয়া নিয়োগের পর প্রথম কর্মদিবসে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৮০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল। বৃহস্পতিবার নিয়োগ পাওয়ার পর শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় রোববারই ছিল তাদের প্রথম কর্মদিবস। সকালে নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে উপস্থিত হন এবং পরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগে দিনের কার্যক্রমে অংশ নেন।
নবনিযুক্ত এক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই অধিকাংশ নবনিযুক্ত আইন কর্মকর্তা কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সকাল ৯টায় আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হলে তারা নিজ নিজ পেশাগত দায়িত্ব পালনে অংশ নেন। পরে হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিও নেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা, কর্মদক্ষতা, দেশপ্রেম এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। তার মতে, সরকার ও রাষ্ট্রপতি এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছেন।
নবনিযুক্ত এই আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকারীরা ভিন্ন ভিন্ন পেশাগত অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন। যার যে বিষয়ে দক্ষতা রয়েছে, তিনি সেই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন। সততা, পেশাদারিত্ব এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দায়িত্ব শুধু সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের সাধারণ জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব। জনগণের কল্যাণ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখেই নতুন ও পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আইন কর্মকর্তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে মোট জনবল ছিল ৩৩৭ জন। বর্তমান নিয়োগের মাধ্যমে সেই কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। তবে কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বা কারা নিয়োগ পাবেন, সে সিদ্ধান্ত নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বিষয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আইনি কার্যক্রমে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবনিযুক্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।