গুমসংক্রান্ত মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন; পরে পর্যবেক্ষণ জানাবেন বিচারপতিরা
উত্তরার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা। গুমসংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিচারপতিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত ব্রিফ করবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন সেনা সদস্য গ্রেপ্তার রয়েছেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।
জানা গেছে, গুমসংক্রান্ত অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিচারপতিরা সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আবেদন করেছিলেন। ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২১ জুলাই সেই আবেদন অনুমোদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারপতিরা র্যাব-১ সদর দপ্তরের টিএফআই সেল এবং কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনের সময় গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজন, মানবাধিকারকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাঞ্জিদাও সেখানে উপস্থিত হন। তার ভাই নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে বিচারপতিদের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বাইরে অবস্থান করলেও পরিদর্শন শেষে বিচারপতিরা তাদের পর্যবেক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন, আলোচিত বা গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত মামলায় বিভিন্ন দেশেও বিচারক বা আদালতের প্রতিনিধিরা প্রয়োজনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর মাধ্যমে মামলার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা নেওয়া সম্ভব হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছে। এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের এই পরিদর্শন গুমসংক্রান্ত বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।