সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সব সুবিধা ও নিরাপত্তা অব্যাহতভাবে পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতির কথিত ফোনালাপের গুঞ্জনকে তিনি ‘অলীক’ ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। গত ৭ আগস্ট ২০২৬ (শুক্রবার) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতির সুবিধা ও নিরাপত্তা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সব সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, সেগুলো তিনি অব্যাহতভাবে পাবেন।” তিনি জানান, আইন অনুযায়ী ছয় মাসের জন্য নিরাপত্তা সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে। এ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) এবং প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রাপ্য সুবিধা (সাধারণ তালিকা)
| সুবিধার ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| পেনশন ও ভাতা | রাষ্ট্রপতির (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন অনুযায়ী |
| নিরাপত্তা | ৬ মাসের জন্য এসএসএফ ও পিজিআর সদস্যদের মাধ্যমে |
| আবাসন | সরকার নির্ধারিত বাসভবন বা সমতুল্য সুবিধা |
| চিকিৎসা | সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা |
| অন্যান্য | সরকার নির্ধারিত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা |
গুঞ্জনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান
সংবাদ ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতির কথিত ফোনালাপের বিষয়ে প্রচারিত গুঞ্জনের প্রসঙ্গও ওঠে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব দাবি ‘অলীক’ ও ভিত্তিহীন। তিনি মন্তব্য করেন, “বর্তমান ইন্টারনেটনির্ভর যুগে কারও সঙ্গে কথা বলার জন্য লন্ডনে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। তাই এ ধরনের গুঞ্জনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সরকারের অবস্থানও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছে। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিয়ে সরকার বর্তমানে কোনো পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না।”
পদত্যাগের প্রেক্ষাপট
২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। এর ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-২০২৬ আয়োজন করতে হয়। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০ আগস্ট ২০২৬-এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
আইনি প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ ও ৫০ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদ, নির্বাচন ও দায়িত্ব সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতির সুবিধা, পেনশন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয় ‘রাষ্ট্রপতির (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন’ এবং ‘President’s Pension Act’-এর অধীনে। এই আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি পেনশন, আবাসন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধার অধিকারী।
সংবিধানের ৩২ ও ৩১ অনুচ্ছেদ জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করে। সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও সুবিধা এই সাংবিধানিক অধিকারের অংশ।
আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ অনেক দেশে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য নির্দিষ্ট পেনশন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধার বিধান রয়েছে।
পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
সাবেক রাষ্ট্রপতির সুবিধা কী কী? রাষ্ট্রপতির (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি পেনশন, আবাসন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অধিকারী।
নিরাপত্তার মেয়াদ কত? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী ছয় মাসের জন্য নিরাপত্তা সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।
এসএসএফ ও পিজিআর কী? স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা প্রদান করে। প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সামরিক বাহিনীর একটি ইউনিট।
পরবর্তী কী হবে? সাবেক রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সুবিধা ও নিরাপত্তা পাবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মামলা বা অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
সংক্ষেপে
- ৭ আগস্ট ২০২৬-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
- সাবেক রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সব সুবিধা ও নিরাপত্তা পাবেন।
- ছয় মাসের জন্য এসএসএফ ও পিজিআর নিরাপত্তা প্রদান করবে।
- শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের গুঞ্জন ‘অলীক’ ও ভিত্তিহীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- ২৪ জুলাই ২০২৬-এ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন; ২০ আগস্ট ২০২৬-এ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- আইনি ভিত্তি: রাষ্ট্রপতির (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন; সংবিধানের ৪৮ ও ৫০ অনুচ্ছেদ।
তথ্যসূত্র
প্রাথমিক সূত্র:
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ — সংবাদ ব্রিফিং, ৭ আগস্ট ২০২৬
- রাষ্ট্রপতির (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন
- President’s Pension Act
- বাংলাদেশের সংবিধান — অনুচ্ছেদ ৩১, ৩২, ৪৮, ৫০
মাধ্যম সূত্র:
- বাসস (BSS) — ৭ আগস্ট ২০২৬
- প্রথম আলো — ৭ আগস্ট ২০২৬
- সমকাল — ৭ আগস্ট ২০২৬
- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম — ৭ আগস্ট ২০২৬
- যুগান্তর — ৭ আগস্ট ২০২৬
আইনি সতর্কতা
এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো আইনি পরামর্শ নয়।
