বরিশালে আদালত প্রাঙ্গণে হামলা: ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যৌতুক মামলার শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক স্বামী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগে ফাতিমা মনীষাকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত ১৯ জুলাই ২০২৬ (রবিবার) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তুল্লাহ ঘটনাটি আদালতের নজরে আনার পর সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনা করে এ আদেশ দেন。

কী ঘটেছে?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন ও ফাতিমা মনীষার বিবাহবিচ্ছেদ হয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ। পরে ফাতিমা মনীষা সাজ্জাদ হোসেন ও তার মায়ের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০-এর ৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় হাজিরা দিতে তারা বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে উপস্থিত হন।

শুনানি শেষে আদালত মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনকে জামিন দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না থাকায় তার মাকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

আদালত থেকে বের হওয়ার পরপরই ফাতিমা মনীষা সাবেক স্বামী সাজ্জাদ হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সাজ্জাদের শার্টের কলার চেপে ধরেন এবং ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন। ঘটনাস্থলে কোনো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আদালতের আদেশ

ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তুল্লাহর নজরে আনা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনা করেন। আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত এ হামলাকে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং আদালতের মর্যাদার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে ফাতিমা মনীষাকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

আইনি প্রেক্ষাপট

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারা

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারায় বলা হয়েছে, আদালতের দৃষ্টিতে বা উপস্থিতিতে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে আদালত তাকে সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে দণ্ড দিতে পারেন। এই ধারায় সর্বোচ্চ ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা এক হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এই মামলায় আদালত ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন, যা এই বিধানের আওতায় পড়ে।

যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০

যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০-এর ৪ ধারায় যৌতুক দাবি বা প্রদানের অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে। এই মামলায় ফাতিমা মনীষা সাজ্জাদ ও তার মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত শুনানি শেষে সাজ্জাদকে জামিন দেন এবং তার মাকে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না থাকায় অব্যাহতি দেন।

দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারা

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় শার্টের কলার চেপে ধরা এবং ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়েছে, যা দণ্ডবিধির ৩২৩ (আঘাত) এবং ৩৫১ (অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ) ধারায় পড়ে।

আদালত অবমাননা

আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত হামলা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে। সংবিধানের ১০৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের আদালত অবমাননার ক্ষমতা রয়েছে।

৯৯৯ অভিযোগের প্রসঙ্গ

এদিকে, সাজ্জাদ হোসেনের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফাতিমা মনীষা বিভিন্ন অভিযোগের মাধ্যমে তাদের হয়রানি করে আসছিলেন। সাজ্জাদের মায়ের অভিযোগ, এর আগে তাদের বিরুদ্ধে ৯৯৯-এ নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে পুলিশ তদন্ত করে ওই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

সংক্ষিপ্ত বিচার কী? ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারার অধীনে আদালতের দৃষ্টিতে বা উপস্থিতিতে সংঘটিত অপরাধের জন্য যে বিচার পরিচালিত হয়, তাকে সংক্ষিপ্ত বিচার বলা হয়। এই বিচারে অভিযুক্তকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়, তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রয়োজন হয় না।

বিনাশ্রম কারাদণ্ড কী? বিনাশ্রম কারাদণ্ড মানে হলো, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কারাগারে শ্রম দিতে হবে না, শুধু কারাগারে থাকতে হবে।

পরবর্তী কী হবে? ফাতিমা মনীষা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। সাজ্জাদ হোসেনের যৌতুক মামলার পরবর্তী শুনানি কী হবে, তা পরবর্তীতে জানা যাবে।

সংক্ষেপে

  • ১৯ জুলাই ২০২৬: বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনা।
  • ফাতিমা মনীষা সাবেক স্বামী সাজ্জাদ হোসেনকে শার্টের কলার চেপে ধরে ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ।
  • ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তুল্লাহ সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনা করে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
  • আইনি ভিত্তি: ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারা।
  • যৌতুক মামলায় সাজ্জাদ জামিন পান এবং তার মা অব্যাহতি পান।
  • বিবাহবিচ্ছেদ হয় ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ।

তথ্যসূত্র

প্রাথমিক আইনি সূত্র:

  • ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ — ধারা ৪৮০
  • যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০ — ধারা ৪
  • দণ্ডবিধি, ১৮৬০ — ধারা ৩২৩, ৩৫১
  • বাংলাদেশের সংবিধান — অনুচ্ছেদ ১০৭
  • বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত — আদেশ, ১৯ জুলাই ২০২৬

মাধ্যম সূত্র:

  • প্রথম আলো — ২০ জুলাই ২০২৬
  • কালবেলা — ২০ জুলাই ২০২৬
  • বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম — ২০ জুলাই ২০২৬
  • সমকাল — ২০ জুলাই ২০২৬

আইনি সতর্কতা

এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো আইনি পরামর্শ নয়। মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে; আদালতের আদেশ চূড়ান্ত। তবে আপিলের সুযোগ রয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। “অভিযোগ” শব্দটি এখানে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, প্রমাণিত অপরাধ নয়। কোনো ব্যক্তিগত আইনি সমস্যার জন্য যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।

Apprentice Advocate
Dhaka Judge Court
About

Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.