আইন পেশায় বয়সসীমার প্রস্তাব, বার কাউন্সিলে সংস্কারের দাবি
পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনজীবীদের কল্যাণ ও প্রশিক্ষণ জোরদারে একাধিক সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরলেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আইনবিষয়ক সম্পাদক ও চেয়ারম্যান নির্বাহী কমিটি, বার কাউন্সিল ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল আইন পেশার বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা, বার কাউন্সিলের কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য সংস্কার নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। তিনি আইনজীবীদের কল্যাণ তহবিলের দীর্ঘদিনের জট নিরসন, পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আইন পেশায় প্রবেশের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং অবসরকালীন আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, বার কাউন্সিলে দীর্ঘদিন ধরে কল্যাণ তহবিলের বহু আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, আইনজীবীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করা জরুরি।
পেশাগত শৃঙ্খলা বিষয়ে তিনি দাবি করেন, বার কাউন্সিলে অসদাচরণের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল ও কমিটি থাকলেও গত এক দশরে কতজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে এবং এ ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।
আইন পেশায় প্রবেশের যোগ্যতা নিয়েও তিনি একটি নতুন প্রস্তাব তুলে ধরেন। তার মতে, চিকিৎসা ও প্রকৌশল পেশার মতো আইন পেশাতেও প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা থাকা উচিত। দীর্ঘদিন অন্য পেশায় কর্মরত থেকে অবসরের পর আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করার পক্ষে তিনি মত দেন।
আইনজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, আইনমন্ত্রীর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং চুক্তির মাধ্যমে আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অবসরকালীন যে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়, তা পর্যাপ্ত নয়। বার অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব তহবিলের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে এ সুবিধা বৃদ্ধি করা সম্ভব বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
আইন পেশার জবাবদিহিতা, কল্যাণমূলক কার্যক্রম, পেশাগত দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে উত্থাপিত এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আইনজীবী সমাজ ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।