শাপলা চত্বর ট্র্যাজেডি: তদন্তে ৬১ জনের খসড়া তালিকা, চলছে যাচাই

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় তদন্ত অব্যাহত; নিরপরাধ কেউ যেন অভিযুক্ত না হন, সে বিষয়ে সতর্কতার কথা জানানো হয়েছে।
শাপলা চত্বর ট্র্যাজেডি ঘিরে চলমান তদন্তে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের নাম খসড়া তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবির সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামও প্রাথমিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে কে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি হবেন এবং কার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হবে, তা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
চিফ প্রসিকিউটর দাবি করেন যে এটি একটি পরিকল্পিত, সুনির্দিষ্ট এবং পদ্ধতিগত (systematic) হত্যাকাণ্ড ছিল। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও প্রতিবাদকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত, লক্ষ্যভিত্তিক এবং ব্যাপক পরিসরের হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ প্রতিহত করতে রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায় থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ৬১ জনের একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন ভুলবশত অভিযুক্ত না হন এবং কোনো প্রকৃত দোষী ব্যক্তি যেন তদন্তের বাইরে না থাকেন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে তদন্তকারী সংস্থা হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তের উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তদন্তকে আরও নির্ভুল করা।
তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী অপরাধ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত। এই আইনের আওতায় তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশই দায়িত্ব পালন করে এবং তদন্তে অপরাধের প্রমাণ ও সংশ্লিষ্টতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো ব্যক্তির পেশা, পদ বা পরিচয় তদন্তে বিশেষ সুবিধা বা ছাড়ের ভিত্তি নয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতেও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ফলে বর্তমান তদন্তেও কোনো ব্যক্তি পুলিশ, সাংবাদিক, আইনজীবী বা অন্য কোনো পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আইন প্রয়োগে পৃথক কোনো সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে।
শাপলা চত্বর ট্র্যাজেডি-সংক্রান্ত এই তদন্ত এখনও চলমান। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র, অভিযুক্তের তালিকা এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দায় নির্ধারণই তদন্তের মূল লক্ষ্য।