শেখ হাসিনার আপিলে বিলম্বের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন আইনমন্ত্রীর

আদালতে হাজিরা, আপিলের সময়সীমা ও আইনের শাসন নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

ঢাকা: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া, আপিলের আইনগত সময়সীমা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি এবং তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচার সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আপিলে বিলম্বের আবেদন (ডিলে কন্ডোনেশন) করার সম্ভাব্য আইনগত জটিলতার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর আপিল দায়েরের জন্য আইনে নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিলম্বিত আপিল গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণত আবেদনকারীকে আদালতের কাছে বিলম্বের যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে হয়। যেমন, মামলার বিষয়ে অজ্ঞতা বা নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত হতে না পারার গ্রহণযোগ্য কারণ আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে।

তবে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করেও নিয়মিত তার মামলাগুলো নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে তার আইনি অবস্থান সম্পর্কে অবগত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করে আসছেন যে, তিনি যেকোনো সময় দেশে প্রবেশ করতে পারবেন। এ অবস্থায় বিলম্বিত আপিলের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনগত কারণ উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।

বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। শেখ হাসিনাসহ যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার প্রচলিত আইন ও আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নীতিতেই সরকার অটল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজের অবস্থান তুলে ধরা এবং নির্দোষ প্রমাণের জন্য আদালতে উপস্থিত হওয়াও আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আইনের শাসনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মুজাফফরের গ্রেপ্তারের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই মামলার আসামিকেও প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিটি অপরাধের বিচার আইনসম্মত উপায়ে সম্পন্ন করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে আইনের শাসন নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। সে কারণে ব্যক্তি বা মামলার ধরন যাই হোক না কেন, সব বিচারিক কার্যক্রম আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে।

সবশেষে আইনমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রাধান্য দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারের নীতিগত অবস্থান। তার মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালতের নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই রাষ্ট্রের একমাত্র পথ।