ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে শোক কর্মসূচি শেষে হামলার অভিযোগ; বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তবে তাদের বক্তব্য মেলেনি।
ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের আগস্ট মাসব্যাপী শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ ও শোক র্যালি পালনকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৩ আগস্ট) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আদালত প্রাঙ্গণে দুদকের পাবলিক পসিকিউটর (পিপি) অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আওয়ামীপন্থি ও সমর্থক আইনজীবীরা। তাদের অভিযোগ, কর্মসূচি শেষে বিএনপিপন্থি কয়েকজন আইনজীবীর হামলায় অন্তত দুই আইনজীবী আহত হয়েছেন।
আওয়ামীপন্থি আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মণ্ডলের দাবি, আগস্ট মাসব্যাপী ঘোষিত শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক র্যালি পালন করছিলেন। র্যালি শেষে বিএনপিপন্থি কয়েকজন আইনজীবী অতর্কিত হামলা চালান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান ও অ্যাডভোকেট এস এম দীপু আহত হন। প্রথমে তাদের আদালতসংলগ্ন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মোকছেদুল হাসান মণ্ডল বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন সাংবিধানিক অধিকার। তার দাবি, ওই ঘটনায় তাদের সেই অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না।
ঘটনার বিষয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আরেক আইনজীবী শামীম আল সাইফুল সোহাগ বলেন, আগস্ট মাসজুড়ে তারা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে চান। আইনজীবী গোলাম রাব্বানীও জানান, পুরো আগস্ট মাসজুড়ে আদালত প্রাঙ্গণে শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ইসতিয়াক আহম্মেদ, এস এম শরিফুল, আতাউর রহমান খান রুকুসহ অন্যরা।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। এর পর আওয়ামী লীগের দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ মে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর থেকে দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হলেও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।