আইন কর্মকর্তা নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ; অটর্নি জেনারেলের বক্তব্য, নিয়োগের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার
সুপ্রিম কোর্টে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে রোববার অটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একটি অংশ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বিক্ষোভকারীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুললেও অটর্নি জেনারেল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আইন কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত তার নয়; এটি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে সকালে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের নিয়ে আপিল বিভাগে যান অটর্নি জেনারেল। সেখানে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পেশাদারিত্ব, সততা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র প্রত্যাশা করে যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেক আইন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ভুলে কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে রাষ্ট্রপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।
গত বৃহস্পতিবার পূর্বের সব নিয়োগ বাতিল করে ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৮০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
রোববার দুপুরে অটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাদের অতীতে আইনজীবীদের সংগঠনের কার্যক্রমে দেখা যায়নি। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা দাবি করেন। বিক্ষোভকারী আইনজীবীরা বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং বিগত সময়ে জেল-জুলুমের শিকার অনেক যোগ্য আইনজীবীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে এবং ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ত্যাগ ও পেশাগত দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে আইনজীবীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য ও আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে অটর্নি জেনারেল বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার অনুযায়ী হয়েছে। কতজন আইন কর্মকর্তা প্রয়োজন এবং কাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়েছে। তিনি নিজেও অন্যদের মতো একজন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা গণমাধ্যমের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন।
নতুন আইন কর্মকর্তা নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে নিয়োগের বৈধতা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।