হেবা ও গিফট আইনে পরিবর্তনের পরিকল্পনা, কমতে পারে সিভিল মামলা
প্রস্তাবিত সংশোধনে গিফটের ক্ষেত্রে জীবনস্বত্ব সংরক্ষণের সুযোগ রেখে পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধ কমানোর কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
দেশে হেবা ও গিফট সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বিদ্যমান আইনে হেবা করার পর বাবা-মা অনেক ক্ষেত্রে সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সন্তানদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট-এর গিফট সংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন এনে জীবনস্বত্ব (Life Interest) সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ কমবে এবং ভবিষ্যতে সিভিল মামলার সংখ্যাও হ্রাস পেতে পারে।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী মুসলিম আইনে হেবা ও ওয়াসিয়ত করার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে হিন্দু আইনে উইল করার সুযোগ আছে। তবে হেবা করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব সমস্যা রয়েছে। কোনো বাবা-মা জীবদ্দশায় সন্তানদের নামে সম্পত্তি হেবা করলে সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তির মালিকানা তাদের হাত থেকে চলে যায়। ফলে তারা পরবর্তীতে সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। যদি সন্তানরা তাদের দেখাশোনা না করে, তাহলে বাবা-মা অসহায় অবস্থায় পড়েন এবং তাদের করণীয় সীমিত হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতির সমাধানে সরকার ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট-এর গিফট সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। আইনমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে গিফটের বিধানকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনের আওতায় গিফটের ক্ষেত্রে জীবনস্বত্ব সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হবে। অর্থাৎ, বাবা-মা সন্তানদের নামে সম্পত্তি গিফট করলেও তারা জীবিত থাকা পর্যন্ত সেই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহার নিজেরাই করতে পারবেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এই ব্যবস্থায় বাবা-মা জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তান এককভাবে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। একইভাবে বাবা-মাও সন্তানের সম্মতি ছাড়া সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন না। তবে যদি চিকিৎসা বা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে সম্পত্তি বিক্রি অপরিহার্য হয়ে পড়ে এবং সন্তান সম্মতি না দেয়, তাহলে জেলা জজের কাছে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত আইনে জেলা জজকে এ ধরনের আবেদন বিবেচনার ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে একটি আইনসম্মত সমাধানের পথ উন্মুক্ত হবে।
আইনমন্ত্রীর মতে, গিফটের ক্ষেত্রে জীবনস্বত্ব সংরক্ষণের এই প্রস্তাব কার্যকর হলে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ কমবে, প্রবীণ বাবা-মায়ের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের সিভিল মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।