খুলনার দিঘলিয়ায় ২০১১ সালের রাশিদা বেগম হত্যা ও লুটপাট মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত; পলাতক তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার রাশিদা বেগম হত্যা মামলায় মা-ছেলেসহ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন দিঘলিয়া উপজেলা সদরের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মোছা. আনোয়ারা বেগম, তার ছেলে মো. ইসমাইল শেখ ওরফে বাবু, জামাই শামিম শেখ, মহেশ্বরপাশা এলাকার রাজু ওরফে রাজু মুন্সি এবং তেরখাদা উপজেলার ইলিয়াস শেখ। তাদের মধ্যে শামিম শেখ ও মোছা. আনোয়ারা বেগম ছাড়া বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। আদালত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নাসিরুজ্জামান তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়ে ও মা রাশিদা বেগমকে বাড়িতে রেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বাইরে যান। এ সময় সংঘবদ্ধ চোরের একটি দল বাড়িতে প্রবেশ করে। তদন্তে উঠে আসে, রাশিদা বেগম জেগে ওঠায় ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে। পরে তারা ঘর থেকে ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার দিন বিরূপ আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে নাসিরুজ্জামানের বাড়ি ফিরতে দেরি হয়। বাড়িতে ফিরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাটের নিচে তার মায়ের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।
পরদিন, ২০ জুলাই, নাসিরুজ্জামান অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১২ মার্চ দিঘলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এটিএম মনিরুজ্জামান আদালতে জানান, তদন্তের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। সেই সূত্র ধরে প্রথমে শামিম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, তিনি রাশিদা বেগমের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার দায়িত্বে ছিলেন এবং বাড়ির বিভিন্ন তথ্য অন্য আসামিদের কাছে পৌঁছে দিতেন। বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে অভিযুক্তরা ঘরে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়।
সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।