রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ‘রাষ্ট্রপতির বেতন, ভাতা ও বিশেষাধিকার আইন, ১৯৭৫’ অনুযায়ী তিনি কোন কোন আজীবন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তা নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা উল্লেখ করে শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে ‘রাষ্ট্রপতির বেতন, ভাতা ও বিশেষাধিকার আইন, ১৯৭৫’ অনুযায়ী পদত্যাগের পর একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি কী ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন, সেই বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
‘রাষ্ট্রপতির বেতন, ভাতা ও বিশেষাধিকার আইন, ১৯৭৫’-এ বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হিসেবে কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন করলে তিনি আজীবন নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন। মোঃ সাহাবুদ্দিন ২৪ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সে হিসেবে তিনি আইনে নির্ধারিত সময় পূরণ করায় এসব সুবিধার জন্য যোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি আজীবন সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক পেনশন পাওয়ার অধিকারী হন। এছাড়া তার জন্য একজন ব্যক্তিগত সহকারী এবং একজন পরিচারকের ব্যবস্থা রাখার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য বার্ষিক ভাতা প্রদানের বিধান রয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে বাসভবনের টেলিফোন বিল বহনের সুবিধাও আইনটিতে উল্লেখ রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন মন্ত্রীর সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন। পাশাপাশি তিনি একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহারের সুযোগ পান এবং দেশের সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা খরচে অবস্থান করার সুবিধাও ভোগ করতে পারেন।
আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল শর্ত হলো রাষ্ট্রপতি হিসেবে ন্যূনতম ছয় মাস দায়িত্ব পালন করা। এই শর্ত পূরণ করলে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সুবিধাগুলো আজীবন প্রযোজ্য থাকে।
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায়ের পর সাবেক রাষ্ট্রপতিদের রাষ্ট্রীয় সুবিধা নির্ধারণে ‘রাষ্ট্রপতির বেতন, ভাতা ও বিশেষাধিকার আইন, ১৯৭৫’ একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো প্রদান করেছে। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এই আইনেই অবসর-পরবর্তী সুবিধার ধরন ও প্রাপ্যতার শর্ত নির্ধারিত রয়েছে।