পঞ্চগড়ে ভাই হত্যা: নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে রহস্য উদ্ঘাটন
পঞ্চগড়: পুলিশি তদন্তে চিরকুটের হাতের লেখা থেকে হত্যাকাণ্ডের সূত্র; আদালতে বোনের স্বীকারোক্তির তথ্য
পঞ্চগড়ের অমরখানা ইউনিয়নে এক যুবকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে পারিবারিক নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল এবং পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহত মানিক হোসেনের কোমরে পাওয়া একটি চিরকুটের হাতের লেখার সঙ্গে তার বড় বোন সমলা আক্তারের কক্ষে থাকা একটি ক্যালেন্ডারের লেখার মিল পাওয়ার পর মামলার তদন্তে নতুন মোড় আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে দেওয়া বক্তব্যে সমলা আক্তার দীর্ঘদিনের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, সমলা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে তার আপন ভাই মানিক হোসেনের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, ভাই জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পাশাপাশি গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ও তার স্বামীর কাছে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করতেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সমলা আক্তার শাহাবুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির সহযোগিতা নেন। অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মানিক হোসেনকে অচেতন করা হয়। এরপর শাহাবুদ্দিন তাকে হত্যা করে মরদেহ মহারাজার দিঘিতে ফেলে দেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং অন্য একজনকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মরদেহের কোমরে একটি চিরকুট গুঁজে রাখা হয়েছিল।
মরদেহ উদ্ধারের পর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত শুরু করে। নিহতের কোমরে পাওয়া চিরকুটের হাতের লেখার সঙ্গে সমলা আক্তারের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা একটি ক্যালেন্ডারের লেখার মিল পাওয়ার পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়। এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ সমলা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে আদালতে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই ঘটনাটি একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি পারিবারিক নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল এবং অপরাধ তদন্তে ফরেনসিক ও প্রামাণ্য আলামতের গুরুত্বকেও সামনে এনেছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।