আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির মোজাফফর হোসেন

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার প্রেক্ষাপটে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফ্ফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির করা হয়েছে।

মোজাফ্ফর হোসেন

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফ্ফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির করা হয়েছে। প্রধান প্রসিকিউটরের আবেদনের পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ গত মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। মামলাটি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, মোজাফ্ফর হোসেনকে গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর এ গ্রেপ্তার কার্যকর হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, ২০০৭ সালের ‘১/১১’ সময়কালে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মোজাফ্ফর হোসেন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের এক পর্যায়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও তার ব্যক্তিগত সহকারীর মধ্যে হওয়া যোগাযোগ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে ২০০৭ সাল থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন আলোচনায় ‘জন্ডু’ নামে একজনের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তী অনুসন্ধানে তদন্তকারীরা ‘জন্ডু’ নামে উল্লেখিত ব্যক্তিকে মোজাফ্ফর হোসেন হিসেবে শনাক্ত করার দাবি করেন।

প্রসিকিউশন আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত একটি মামলায় মোজাফ্ফর হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

প্রসিকিউশনের বক্তব্যে ‘১/১১’ সময়কালকে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি শুরু হওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে বলেও জানানো হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগের মধ্যে অপহরণ, নির্যাতন, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং গণতান্ত্রিক কার্যক্রম দমনের মতো বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো বিচারাধীন এবং এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মামলাটি বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী আদেশের ভিত্তিতে এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।