২০ জেলায় পাইলট প্রকল্পে কমছে মামলার জট: আইনমন্ত্রী

বিচার ব্যবস্থার ৪৫ লাখের বেশি চলমান মামলার চাপ কমাতে বিশেষ উদ্যোগ; পারিবারিক আদালতে নতুন মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসের তথ্য তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী।

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় চলমান মামলার জট কমাতে সরকার ২০টি জেলায় একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা আদালত ও চৌকি আদালত পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লক্ষেরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া পাইলট প্রকল্পের প্রাথমিক ফলাফল ইতিবাচক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। এ কারণে বিচার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করা, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং আদালতের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।তিনি জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় নতুন মামলা দায়েরের সংখ্যা কমেছে। পারিবারিক আদালতে মামলা দায়েরের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৫৯ থেকে কমে ১ হাজার ৭৪৪-এ নেমে এসেছে, যা প্রায় ৫১ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে। একই সময়ে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা ২৪ থেকে কমে ১৮-এ দাঁড়িয়েছে।এছাড়া, সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টনসংক্রান্ত মামলাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তবে প্রকল্পটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে বা এর নির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধি পায় এবং আদালতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এই বাস্তবতায় মামলার জট কমানোকে বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সরকারের এই পাইলট উদ্যোগের প্রাথমিক ফলাফল বিচার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়নের জন্য ভবিষ্যতেও এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের মামলার জট কমানো এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগের প্রাথমিক ফলাফল ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।