অনলাইন জুয়া চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৬০৬ এমএফএস সিম

ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গাজীপুর ও কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার; অনলাইন জুয়ার অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ।
ঢাকা: অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গাজীপুর ও কুমিল্লায় পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সিম, একটি ল্যাপটপ এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এমএফএসের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার অর্থ সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট সংবলিত ৬০৬টি সিম কার্ড, আরও ৬৭টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ এবং একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, চক্রটি বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটের জন্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করত। পরে সেই অর্থ ডলারে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো। এভাবে তারা একটি সুসংগঠিত আর্থিক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফুর রহমান নামে এক ব্যক্তি এই চক্রের মূল হোতা বা ‘সোল এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করতেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করতেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন বলেও জানানো হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন হতো। একই সঙ্গে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্য তদন্তাধীন বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
ডিএমপি জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ পাচার ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচনে তদন্ত চলমান রয়েছে।
অনলাইন জুয়া ও অবৈধ আর্থিক লেনদেন দমনে পরিচালিত এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।