আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক স্বামীকে মারধর, নারীর ৫ দিনের কারাদণ্ড
বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনায় সংক্ষিপ্ত বিচারে দণ্ড; যৌতুক মামলায় শুনানি শেষে ঘটে ঘটনা।
গত ১৯ জুলাই বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যৌতুক মামলার শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক স্বামী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগে ফাতিমা মনীষাকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তুল্লাহ ঘটনাটি আদালতের নজরে আনার পর সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন ও ফাতিমা মনীষার বিবাহবিচ্ছেদ হয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি। পরে ফাতিমা মনীষা সাজ্জাদ হোসেন ও তার মায়ের বিরুদ্ধে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় হাজিরা দিতে তারা বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে উপস্থিত হন।
শুনানি শেষে আদালত মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনকে জামিন দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না থাকায় তার মাকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
আদালত থেকে বের হওয়ার পরপরই ফাতিমা মনীষা সাবেক স্বামী সাজ্জাদ হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সাজ্জাদের শার্টের কলার চেপে ধরেন এবং ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন। ঘটনাস্থলে কোনো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তুল্লাহর নজরে আনা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনা করেন। আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত এ হামলাকে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং আদালতের মর্যাদার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে ফাতিমা মনীষাকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এদিকে, সাজ্জাদ হোসেনের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফাতিমা মনীষা বিভিন্ন অভিযোগের মাধ্যমে তাদের হয়রানি করে আসছিলেন। সাজ্জাদের মায়ের অভিযোগ, এর আগে তাদের বিরুদ্ধে ৯৯৯-এ নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে পুলিশ তদন্ত করে ওই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা ও বিচারিক পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে আদালতের কার্যক্রম চলাকালে বা আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।